স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা করল আইকন অফ দ্য সিজ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৮ জানুয়ারি ২০২৪, ০২:১৬ PM

আইকন অব দ্য সিজ’ নামে প্রমোদতরী স্থানীয় সময় শনিবার সূর্যাস্তের আগে প্রথম যাত্রা করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য মায়ামি বন্দর থেকে ছেড়েছে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে এই বড় প্রমোদতরী। এতে রয়েছে বিনোদনের বিশাল জগত। বিলাসিতা ও সুখসাগরে ভেসে যাওয়ার সব আয়োজন। 

টাইটানিকের চেয়ে পাঁচ গুন বড় এই প্রমোদতরীকে অনেকেই মায়ানগরী বলছেন। বিশালতা, চাকচিক্য, বিনোদনের সম্ভার ও সুপরিসর এই প্রমোদতরী ভ্রমণপিপাসুদের দৃষ্টি কেড়েছে। 

সিটিজেন-Tarique-(25)

কী আছে আইকন অফ দ্য সিজ-এ

এখানে ক্রুজ জাহাজে ২০টি ডেক রয়েছে, রয়েছে ৭টি সুইমিং পুল, ৬টি ওয়াটার স্লাইড। প্রমোদ তরীটির সবচেয়ে উপরের ডেকে আছে ৪০টির বেশি বার, রেস্তোঁরা, লাউঞ্জ এবং বিনোদনস্থল। বিশাল এই তরীতে একসঙ্গে থাকতে পারবেন ৭ হাজার ৬০০ জন যাত্রী। ২ হাজার ৩৫০ জন ক্রুর জন্য আলাদা থাকার বন্দোবস্ত আছে।

রয়্যাল ক্যারিবিয়ান গ্রুপের মালিকানাধীন এই প্রমোদতরীর সামনের দিকে আছে 'অ্যাকোয়াডোম'। সেখানে দেখা যাবে জলপ্রপাত। আরও আছে পাঁচ ডেক উঁচু ও খোলা সেন্ট্রাল পার্ক। তাতে আছে এক সাঁতারুর ভাস্কর্য এবং প্রচুর গাছপালা।

আর ৭০ শতাংশ কক্ষের সঙ্গেই আছে বারান্দা। যেখানে দাঁড়িয়ে সমুদ্রের অন্তহীন নীল সৌন্দর্য উপভোগ করা যাবে। যাত্রীদের বিনোদন দেওয়ার জন্য ৫০ জন সঙ্গীতশিল্পী এবং কমেডিয়ানও আছে এই তরীতে। আইকন অফ দ্য সিজ-এর দৈর্ঘ্য ৩৬৫ মিটার (১ হাজার ১৯৭ ফুট)। এর ওজন ২ লাখ ৫০ হাজার ৮০০ টন।  

'থ্রিল আইল্যান্ড'-নামে বিশালাকার ওয়াটার পার্কও আছে প্রমোদতরীটিতে। 'সার্ফসাইড' নামে একটি পারিবারিক এলাকা আছে। সরাসরি সমুদ্রের দৃশ্য দেখার জন্য আছে 'রয়্যাল প্রমেনেড'। 'দ্য হাইডওয়ে'তে ইনফিনিটি পুলও রয়েছে।

এতদিন বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রমোদতরী ছিল রয়্যাল ক্যারিবিয়ানের 'ওয়ান্ডার অফ দ্য সিজ'। সেটিকে পেছনে ফেলে বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রমোদতরী হল আইকন অব দ্য সিজ। ওয়ান্ডার অব দ্য সিজ ছিল ১ হাজার ১৮৮ ফুট দীর্ঘ, আর ওজন ছিল ২ লাখ ৩৫ হাজার ৬০০ টন।

২০২২ সালের এপ্রিলে ফিনল্যান্ডের মেয়ার তুর্কু শিপইয়ার্ডে এই প্রমোদতরী তৈরির কাজ শুরু হয়। জাহাজটি বানাতে খরচ হয়েছে ২০০ কোটি ডলার।

সিটিজেন-Tarique-(26)

মিথেন গ্যাস নিঃসরণ পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক

প্রমোদ তরীটির মিথেন গ্যাস নিঃসরণ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন পরিবেশবিদরা। তারা বলছেন, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসচালিত প্রমোদ তরীটি বাতাসে ক্ষতিকারক মিথেন ছড়াবে। ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিল অন ক্লিন ট্রান্সপোর্টেশনের (আইসিসিটি) মেরিন প্রোগ্রামের পরিচালক ব্রায়ান কমার বলেছেন, ‘এটি একটি ভুল পদক্ষেপ। কারণ, আমরা অনুমান করেছি যে, সামুদ্রিক জ্বালানি হিসেবে এলএনজি ব্যবহার করলে সামুদ্রিক গ্যাস তেলের তুলনায় ১২০ ভাগ বেশি গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন হয়।’

যদিও জ্বালানি তেলের মতো প্রথাগত সামুদ্রিক জ্বালানির তুলনায় এলএনজি বেশ ভালোভাবে দহন হয়। কিন্তু এটির লিকেজ হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।

শক্তিশালী গ্রিনহাউস গ্যাস মিথেন বায়ুমণ্ডলে ২০ বছরে কার্বন ডাই অক্সাইডের চেয়ে ৮০ গুণ বেশি তাপ আটকে রাখে। গ্লোবাল ওয়ার্মিং কমানোর জন্য এই গ্যাসের নির্গমন হ্রাস করা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।