ভরা মৌসুমেও জমে উঠেনি চায়ের বাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক
সিটিজেন ডেক্স // সিটিজেন ডেক্স //
প্রকাশিত: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৩, ১০:৫৭ AM

দেশে চা বিক্রির ভরা মৌসুম শীতকাল। তাছাড়া সামাজিক ও রাজনৈতিক অনুষ্ঠানেও চায়ের চাহিদা বেশি থাকে। একসময় নির্বাচন সামনে রেখে সাধারণ মানুষের মধ্যে চা পানের প্রবণতা থাকলেও সেটি আগের মতো নেই। এ কারণে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও শীত মৌসুমেও চায়ের বিপণন আশানুরূপ হয়নি। সম্প্রতি চট্টগ্রামে একাধিক নিলামে চা বিক্রি ৪৯ শতাংশ কমেছে বলে জানিয়েছেন বাগান ও ব্রোকার্স মালিকরা।

সিজে-tea

দেশের শীর্ষস্থানীয় চা বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ব্রোকার্স লিমিটেডের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ৩৪তম চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক নিলামে প্রস্তাবিত চায়ের বিক্রি হয়েছে মাত্র ৫১ শতাংশ। মৌসুমের মাঝামাঝি প্রতি কেজি চা গড়ে ২০০ টাকার চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হলেও বর্তমানে দাম নেমেছে কেজিপ্রতি ১৭০ টাকা। দেশে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বাড়তি চা উৎপাদন হলেও ভরা মৌসুমেও বিপণন মন্দায় নিলামে চায়ের দরপতন অব্যাহত রয়েছে বলে মনে করছেন চা-সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, নির্বাচন হলে শহরে ও গ্রামে চায়ের চাহিদা বেড়ে যায়। নির্বাচনী প্রচা
রণা, মিছিল-মিটিংসহ যেকোনো আয়োজনে চা গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী উপাদান। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় নির্বাচনে ডিজিটাল মাধ্যমের ব্যবহার, কোমল পানীয়সহ মানুষের খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তনজনিত কারণে চায়ের চাহিদা তুলনামূলক কমেছে।

চা খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের আমদানীকৃত কিংবা দেশে উৎপাদিত যেকোনো কৃষিজ ও শিল্প পণ্যের দাম বিগত সময়ের তুলনায় বেড়েছে। উৎপাদিত পণ্যের দাম ক্রমাগত বাড়লেও চায়ের ক্ষেত্রে ঘটেছে উল্টো। উৎপাদন খরচ বাড়লেও নিলামে চাহিদামতো দাম না বাড়ায় লোকসানের পড়েছেন বলে দাবি করছেন চা বাগান মালিকরা।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিলামে প্রতি কেজি চায়ের গড় দাম ১৭০-১৮০ টাকার মধ্যে হলেও কিছু কিছু বাগান ৩০০ থেকে সাড়ে ৩০০ টাকারও বেশি দামে চা বিক্রি করছে। যদিও দেশে চায়ের প্রতি কেজির উৎপাদন খরচ ১৯০-২০০ টাকার মধ্যে। নিলাম বর্ষের শুরুতে চায়ের ভালো দাম পাওয়া গেলে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি উৎপাদন, চায়ের চাহিদা কমে যাওয়ায় দেশীয় উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ পণ্যটির বাজারে মন্দা দেখা দিয়েছে।

শীত মৌসুমে চায়ের বাজার চাঙ্গা থাকে। নির্বাচনী মৌসুমেও চায়ের ভালো কাটতি পাওয়া যায়। শীতের সময়ে নির্বাচন হলে সীমিত সময়ের জন্য হলেও চায়ের চাহিদা বেড়ে দামে প্রভাব ফেলে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ের নির্বাচনগুলো চায়ের বাজারে প্রভাব ফেলতে পারেনি। মানুষের খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন, নির্বাচনী প্রচারণায় ডিজিটাল মাধ্যমের প্রবেশের কারণে চায়ের উপস্থিতি আগের মতো নেই। এ কারণে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখেও চায়ের বাজার চাঙ্গা হয়নি।’