চবি-এলাকাবাসীর ভয়াবহ সংঘর্ষ, মেডিকেলে ৪০

নিজস্ব প্রতিবেদক
জার্নাল ডেস্ক জার্নাল ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩১ আগস্ট ২০২৫, ০৭:৪২ PM

তিন ঘণ্টা ধরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষ চলে। তখনও পর্যন্ত ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্যের উপস্থিতি দেখা যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও পরিস্থিতি নিয়স্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে বলে জানিয়েছে।

রোববার (৩১ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে দুই পক্ষের মধ্যে দ্বিতীয় দিনের মতো সংঘর্ষ শুরু হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে সমঝোতা করতে গেলে তারা শিক্ষার্থীদের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরে দুই পক্ষই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দেড় কিলোমিটার দূরে হাটহাজারী মডেল থানা ও আট কিলোমিটার দূরে রয়েছে চট্টগ্রাম সেনানিবাস। তবুও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি দেখা যায়নি।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ক্যাম্পাসে মোতায়েন করতে। তবে তারা সফল হচ্ছে না।

এর আগে, শনিবার রাতে কয়েক ঘণ্টা সংঘর্ষ হয় শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে। এতে অর্ধ শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন।

জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের এক নারী শিক্ষার্থী ২ নম্বর গেটের মাছ বাজার সংলগ্ন শাহাবুদ্দিনের বাসায় ভাড়া থাকেন। তিনি রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাসায় ঢুকতে চাইলে দারোয়ানের সঙ্গে তার বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে দারোয়ান ওই ছাত্রীকে মারধর করেন। ওই শিক্ষার্থী তার এক ছেলে বন্ধুকে মোবাইল ফোনে বিষয়টি জানান।

খবর পেয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী একত্রিত হয়ে ওই দারোয়ানকে ধরতে গেলে ওই এলাকায় উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয়রা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে স্থানীয়রা মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে জড়ো হন এবং শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেন। অন্যদিকে শিক্ষার্থীরাও চবির সোহরাওয়ার্দী হলের মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে সংঘর্ষে জড়ান। এতে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন।

চবি মেডিকেলের চিকিৎসক ডা. মুহাম্মদ টিপু সুলতান বলেন, বহু শিক্ষার্থী আহত অবস্থায় মেডিকেলে ভর্তি হয়েছেন। আমরা তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছি। যাদের অবস্থা গুরুতর আমরা তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছি।

এদিকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এলাকাবাসীর সংঘর্ষের ঘটনায় আহত অন্তত ৪০ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাদের সবার শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে।

রোববার (৩১ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেলের জরুরি বিভাগের সামনে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি বাসে করে আহত শিক্ষার্থীদের নিয়ে আসা হয়েছে। বাসগুলো থেকে নামিয়ে একে একে আহত শিক্ষার্থীদের স্ট্রেচারে করে জরুরি বিভাগের ভেতরে নেওয়া হচ্ছে। কিছু শিক্ষার্থীকে অন্য সহপাঠীরা কোলে করে ভেতরে নিয়ে যাচ্ছেন। আহতদের অনেকের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ব্যান্ডেজ রয়েছে। 

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ৪০ জনের মতো আহত শিক্ষার্থীকে আমাদের এখানে ভর্তি করা হয়েছে।’

আহতদের সঙ্গে থাকা চবি ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি মামুন উর রশীদ মামুন বলেন, ‘অনেক শিক্ষার্থী আহত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেলে ভর্তি হয়েছেন। বাসে করে এখনও আহতদের আনা হচ্ছে।’

এদিকে, সংঘর্ষের জেরে ওই ঐলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে হাটহাজারী উপজেলা প্রশাসন।