নুরের ওপর হামলার ঘটনায় ১০১ সংগঠনের বিবৃতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
জার্নাল ডেস্ক জার্নাল ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩০ আগস্ট ২০২৫, ১১:৫০ AM

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকারের বিরুদ্ধে চলমান গণঅভ্যুত্থানের সহযোদ্ধা ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরসহ অর্ধশতাধিক জুলাই যোদ্ধার ওপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে জুলাই ঐক্যের সহযোগী ১০১টি সংগঠন। এক যৌথ বিবৃতিতে তারা এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সতর্ক করেছে— অবিলম্বে এ ধরনের বর্বরতা বন্ধ না হলে সারাদেশে ব্যাপক প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

এর আগে শুক্রবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর বিজয়নগরে গণঅধিকার পরিষদের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা শান্তিপূর্ণ মিছিলে নির্বিচার হামলা চালায়। এতে ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন।

যৌথ বিবৃতিতে ১০১টি সংগঠন উল্লেখ করেছে, “গণঅভ্যুত্থানের এক বছর পার হলেও বাহিনী সংস্কারের প্রতিশ্রুতি এখনও বাস্তবায়ন হয়নি। জুলাই যোদ্ধাদের ওপর নির্বিচার হামলা মানে জুলাই স্পিরিটকে অস্বীকার করা। যারা এ স্পিরিটের সঙ্গে বেইমানি করবে, তাদের পরিণতি খুনি হাসিনার মতোই হবে।”

তারা আরও বলেছে, “নতুন বাংলাদেশ গড়ার এই সময়ে জনগণ শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির অনুশীলন আশা করেছিল। কিন্তু সেনা ও পুলিশ সদস্যদের অমানবিক হামলা ফ্যাসিবাদের কালো দিনগুলো মনে করিয়ে দিয়েছে। গণতান্ত্রিক আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা মানে জনগণের ওপর হামলা।”

সংগঠনগুলো অবিলম্বে হামলায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনানুগ শাস্তির দাবি জানিয়েছে। তারা সতর্ক করে বলেছে, “সামরিক বাহিনীকে যদি রাজনৈতিক মব হিসেবে ব্যবহার করা হয়, জনগণ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে বাধ্য হবে। রাষ্ট্রযন্ত্রের নামে সামরিক মব সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে এখনই।”

জাতীয় পার্টির বিরুদ্ধেও তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আওয়ামী ফ্যাসিবাদের সহযোগী রাজনৈতিক দল জাতীয় পার্টি দীর্ঘদিন ধরে গণবিরোধী অবস্থান নিয়েছে। আজ তাদের কার্যালয়ের সামনে প্রতিবাদ করতে গিয়ে নুরসহ নেতাকর্মীরা রক্তাক্ত হয়েছে। জাতীয় পার্টিকে অবিলম্বে রাজনৈতিক বিচারের আওতায় আনা হোক।”

১০১টি সংগঠনের নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, “যদি আবারও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে সামরিক মব নামানো হয়, আমরা সারাদেশে প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ব। জনগণের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত জুলাই বিপ্লবকে ব্যর্থ হতে দেব না।”

যৌথ বিবৃতিদানকারী সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে- আপ বাংলাদেশ, ইনকিলাব মঞ্চ, জুলাই রেভলুশনারি অ্যালায়েন্স, জুলাই রেভলুশনারি জার্নালিস্ট অ্যালায়েন্স, পুনাব, পুশাব, নেক্সাস ডিফেন্স, সাধারণ আলেম সমাজ, জাগ্রত জুলাই, জুলাই মঞ্চ, বাংলাদেশ কওমি ছাত্রসংগঠন (কছাস), বৈষম্যবিরোধী কওমি ছাত্র আন্দোলন, জুলাই ছাত্রজনতা সংসদ, জুলাইয়ের সাংবাদিকরা, বাংলাদেশ কারিগরি ছাত্র পরিষদ, জেন-জি স্টুডেন্ট ইউনিটি, জুলাই সাংস্কৃতিক সংসদ, সোশ্যাল সাইন্স ক্লাব (ঢাকা কলেজ), রোটার‌্যাক্ট ক্লাব অব ইসলামিক ইউনিভার্সিটি, সিসিএস-জাতীয় ভোক্তা অধিকার, সোচ্চার স্টুডেন্টস নেটওয়ার্ক (ঢাবি), রাইজিং ইয়থ রামপুরা, পিপলস রিফর্ম অ্যালায়েন্স, নাপুস, একতার বাংলাদেশ, তরুণ, জুলাই বিপ্লবী যুব সংগঠন, ফরিদগঞ্জ লেখক ফোরাম, জুলাই চেতনা, জুলাই সংগ্রাম পরিষদ, গণঅভ্যুত্থান রক্ষা আন্দোলন, ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্রজনতা মঞ্চ, জুলাই রেভোলিউশনারি ক্লাব, বাংলাদেশ সংস্কার আন্দোলন, নিরাপদ বাংলাদেশ চাই, হিউম্যান রাইটস সোসাইটি, ইয়থ ফর পিস অ্যান্ড জাস্টিসেস, ইসলামিক কমিউনিটি বাংলাদেশ, লুমিনাস সাইন্স ক্লাব, ঢাকা কলেজ ইয়ুথ ক্লাব, জুলাই স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদ, শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন, সোশ্যাল রিফর্ম কমিটি, জুলাই মুক্তি মঞ্চ, আলিয়া সাংস্কৃতিক সংসদ, পরিবর্তন পরিষদ, ইয়থ ফর বেটার ফিউচার সোস্যাইটি, মুসো, ফ্যাসিবাদ মুক্ত গণমাধ্যম চাই, বাংলাদেশ রিপাবলিকান, জাতীয় শ্রমিক ঐক্য, ওয়াইবিজে, চেতনায় জুলাই, মুক্তির নিশান, অ্যান্টি ফ্যাসিস্ট কোয়ালিশন, বিজয় ইয়ুথ ফাউন্ডেশন, জুলাই গণহত্যা বিচার নিশ্চিত পরিষদ, সংগ্রাম প্রতিদিন, আমাদের মোহাম্মদপুর, সুন্দর বাংলাদেশ, এসো দেশ গড়ি এবং আরও অন্যান্য সংগঠন।