বাংলাদেশে বায়ুদূষণের ভয়াবহ প্রভাব

বিশ্বে সবচেয়ে বেশি বায়ুদূষিত দেশ হিসেবে শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ। দেশের মানুষের আয়ুষ্কাল কমার সবচেয়ে বড় বাহ্যিক কারণ হিসেবে বায়ুদূষণকে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা গড়ে প্রত্যেক নাগরিকের আয়ু সাড়ে ৫ বছর পর্যন্ত কমিয়ে দিচ্ছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এয়ার কোয়ালিটি লাইফ ইনডেক্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে দূষণের মাত্রা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্দেশিত মাত্রার তুলনায় ১২ দশমিক ২ গুণ বেশি এবং বৈশ্বিক গড় দূষণের আড়াই গুণ।
বাংলাদেশে বস্তুকণা দূষণ (পিএম২.৫) ডব্লিউএইচওর নির্দেশিকা অনুযায়ী ৫ মাইক্রোগ্রাম পার কিউবিক মিটার মান পূরণ করলে একজন বাংলাদেশি গড়ে সাড়ে ৫ বছর দীর্ঘজীবী হতে পারেন।
এতে আরো বলা হয়েছে, ১৯৯৮ সাল থেকে বাংলাদেশে দূষণ বেড়েছে ৬৬ শতাংশ। দূষণের মাত্রা যদি ১৯৯৮ সাল থেকে স্থির থাকত, তবে ডব্লিউএইচওর নির্দেশিকা অনুযায়ী দেশের মানুষের গড় আয়ু ২ দশমিক ৪ বছর বাড়তে পারত।
দূষণে রাজধানী ঢাকার অবস্থা আরো শোচনীয়।
দূষণের পরিমাণ ডব্লিউএইচওর নির্দেশিত মাত্রার মধ্যে থাকলে শহরটির বাসিন্দাদের গড় আয়ু বাড়তে পারত ৬ দশমিক ৬১ বছর। দূষণের মাত্রা না কমলে ঢাকা শহরের চার কোটি ১৮ লাখ মানুষ সর্বমোট ২৭ কোটি ৬৫ লাখ বছর হারিয়ে ফেলার পথে রয়েছে।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, দূষণের শীর্ষে রয়েছে ঢাকা বিভাগ। এর পরেই রয়েছে যথাক্রমে চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ।
দূষণের জেলাভিত্তিক তালিকায় শীর্ষে রয়েছে গাজীপুর; দ্বিতীয় স্থানে ঢাকা, তৃতীয় নারায়ণগঞ্জ, চতুর্থ শরীয়তপুর ও পঞ্চম স্থানে রয়েছে চাঁদপুর।
এতে আরো বলা হয়েছে, বাংলাদেশ প্রতি ঘনমিটারে ৩৫ মাইক্রোগ্রাম সূক্ষ্ম বস্তুকণার দূষণের জাতীয় মানদণ্ড পূরণ করে না। জাতীয় মানদণ্ড দূষণ কমাতে তখনই কার্যকর, যদি এটি পূরণ করা হয় এবং বাস্তবায়নে যথেষ্ট কঠোর হয়।
দীর্ঘদিন ধরেই ভয়াবহ দূষণের কবলে রয়েছে রাজধানী ঢাকাসহ পুরো বাংলাদেশ। জানুয়ারিতে এয়ার কোয়ালিটি লাইফ ইনডেক্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, বাংলাদেশে প্রতিবছর ১ লাখের বেশি প্রাণহানির পেছনে ভূমিকা রাখে বায়ুদূষণ।
সেন্টার ফর রিসার্চ অন অ্যানার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ার (সিআরইএ) এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে। এতে আরো বলা হয়, বায়ুদূষণজনিত কারণে প্রতিবছর ৫ হাজার ২৫৮ জন শিশু মারা যায়।