অবশেষে সেই ফিলিস্তিনিদের মুক্তি দিল ইসরায়েল

নিজস্ব প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক জার্নাল আন্তর্জাতিক জার্নাল
প্রকাশিত: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৯:০৫ AM

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) ছয় জীবিত জিম্মিকে মুক্তি দিলেও তখন দখলদার ইসরায়েলের ৬৪২ ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেয়নি। চুক্তি ভঙ্গ করে তাদের মুক্তি আটকে রেখেছিল ইসরায়েল। অবশেষে বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে ইসরাইলের ওফার কারগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয় বন্দি ফিলিস্তিনিদের। তবে এর আগে আরও চার ইসরায়েলি জিম্মির মরদেহ ফেরত দিয়েছে হামাস।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাতে কড়া সেনা পাহাড়ায় ৬৪২ ফিলিস্তিনিকে অধিকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লায় পৌঁছে দেওয়া হয়। একইদিন রেড ক্রসের কাছে চার ইসরাইলি জিম্মির মরদেহ হস্তান্তর করেছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস।

মরদেহ গ্রহণের কথা নিশ্চিত করেছে ইসরাইল। মরদেহগুলো শনাক্তের প্রক্রিয়া চলছে বলে আইডিএফ জানিয়েছে।
 
এর আগে, হামাস ইসরাইলি জিম্মিদের ওপর ‘নিষ্ঠুর আচরণ’ করেছে এমন অভিযোগে গত ২২ ফেব্রুয়ারি ৬০০ ফিলিস্তিনি বন্দির মুক্তি স্থগিত করে ইসরাইল। প্রতিক্রিয়ায় হামাস বলে, এটি চুক্তির গুরুতর লঙ্ঘন। পরে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর উদ্যোগে গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তির সর্বশেষ অচলাবস্থা কেটেছে বলে জানায় ইসরাইল ও হামাস কর্মকর্তারা।

এদিকে শনিবার (১ মার্চ) শেষ হচ্ছে গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম ধাপের সময়সীমা। পরবর্তী ধাপের আলোচনার জন্য প্রতিনিধি দল পাঠানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বৈঠক ডেকেছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বিভিন্ন গণমাধ্যম বলছে, যুদ্ধবিরতির সময় বাড়াতে ও উপত্যকায় ত্রাণ পৌঁছানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র।
 
গাজায় আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের প্রতি ইসরাইলের নজিরবিহীন অবহেলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক বলেন, উপত্যকাটিতে নেতানিয়াহু বাহিনীর সামরিক অভিযান কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

অন্যদিকে পশ্চিম তীরের নূর শামস শরণার্থী শিবির থেকে সবাইকে সরে যেতে নির্দেশ দিয়েছে ইসরাইল। নেতানিয়াহু বাহিনীর এমন ঘোষণার পর আশ্রয় কেন্দ্র ছাড়তে শুরু করেছেন সেখানকার বাসিন্দারা। তারা জানান, শরণার্থী শিবিরের বেশকিছু স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়ে সেখানে রাস্তা বানানোর পরিকল্পনা আছে ইসরাইল।

প্রায় ১০ দিন আগে ইসরায়েলের চার জিম্মির মরদেহ ফেরত দেয় হামাস। ওই সময় মঞ্চ তৈরি করে ওই মরদেহবাহী কফিন প্রদর্শন করে সশস্ত্র গোষ্ঠীটি। এ নিয়ে আপত্তি জানায় দখলদার ইসরায়েল। এরপর শনিবার যখন ছয় জীবিত জিম্মির মুক্তির পরও ৬৪২ ফিলিস্তিনি আটকে দেয় দখলদার ইসরায়েল।